ঠিকমতো খাবার খেতে পায় না ৪ কোটি মার্কিন নাগরিক!

শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, শীর্ষ সামরিক শক্তি আর অহংকারের মিশেলে গঠিত দেশের নাম যুক্তরাষ্ট্র। বিস্ময়ের ব্যাপার হলেও সত্য, এই যুক্তরাষ্ট্রেরই একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে প্রতিদিন খাবারের জন্য রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়।

সম্প্রতি কাতার ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় চার কোটি মার্কিন নাগরিক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

রান্নাঘরে নানান ধরনের খাদ্য তৈরিতে ব্যস্ত মার্টিনা সান্তোস নামের এক মার্কিন নারী। তবে, নিজের পরিবারের সদস্যদের জন্য নয়, এসব খাবার বিতরণ করা হবে ক্ষুধার্ত মার্কিনদের মধ্যে। প্রতিদিন এভাবেই বাজার থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে তা রান্নার পর, সংগঠনের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। দরিদ্র মানুষের সহায়তায় কাজ করা সংগঠন ফুড ক্যাম্পেইনে এই নারীর মতো কাজ করছেন আরো অনেক স্বেচ্ছাসেবী।

স্বেচ্ছাসেবী মার্টিনা সান্তোস বলেন, আমার দেশেরই অনেক মানুষ খাদ্যাভাবে ভুগছে। তাই নিজের তাগিদ থেকেই এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। আশা করি এর মাধ্যমে অনেক মানুষ উপকৃত হবে।

বিগত কয়েক বছর ধরেই ক্ষুধার্ত মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে খাদ্য বিতরণে কাজ করছে এই সংগঠনটি। বিভিন্ন উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করে, তা দিয়ে নিজেরাই খাবার তৈরি করেন সংগঠনটির কর্মীরা।

ফুড ক্যাম্পেইনের সমন্বয়কারী অ্যালিসন রোজেনথাল বলেন, এখানে অনেক পরিবারই আছে, যারা তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে অক্ষম। এদের মধ্যে অভিবাসীর সংখ্যাই বেশি। আমরা সেইসব অসহায় মানুষদের খাদ্যের যোগান দিতেই এ ব্যবস্থা করেছি।

যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষুধামুক্ত করতে মার্কিন প্রশাসন কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে দাবি অনেক নাগরিকের। আর এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।

হাঙ্গার ফ্রি আমেরিকার ক্যাম্পেইনার জোয়েল বার্গ বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মানুষদের খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তা করা হচ্ছে। কি কারণে? কারণ সরকার সাধারণ মানুষদের রক্ষা করতে পারছে না। প্রতিনিয়ত তাদের দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। সঙ্কট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সরকারকেই নিতে হবে।

তবে এ ধরণের দাতব্য কার্যক্রমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষুধামুক্ত করা যাবে না বলে মত বিশ্লেষকদের। যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সঙ্কট সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

About বার্তাটাইম

View all posts by বার্তাটাইম →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.