পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা যুবকের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ

আঞ্চলিক

মিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন যে ব্যক্তি তাকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত ব্যক্তির নাম ইকবাল হোসেন। তিনি কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর নুর আহম্মদ আলমের ছেলে। ওই যুবকের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার না করায় গ্রেফতারে সময় লাগছে বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে এই যুবক নজরদারিতে রয়েছে এবং দেশেই আছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, আমরা এ ঘটনার মূল সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছি। তাকে গ্রেফতারে সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। আশাকরি শিগগিরই নাটকীয় অগ্রগতি পাওয়া যাবে। পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, শনাক্ত ইকবাল হোসেন কোথা থেকে ওই কোরআন শরীফটি সংগ্রহ করেন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাও বের করা হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে ৬টার মধ্যে কুমিল্লার পূজা মণ্ডপে কোরআন রাখা হয়। সে সময়ই সরিয়ে নেওয়া হয় হনুমানের হাতে থাকা গদা। গদা নিয়ে চলে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, রাত ২টা ১০ মিনিটে দারোগাবাড়ির মসজিদ থেকে কিছু একটা হাতে নিয়ে বের হচ্ছেন এক যুবক। তার গতিবিধি সন্দেহজনক। এর এক ঘণ্টা ২ মিনিট পর আরেকটা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কুমিল্লার নানুয়াদীঘি অস্থায়ী মণ্ডপের উত্তর-পূর্বদিকের রাস্তায় ঘোরাফেরা করছেন ওই ব্যক্তি। তার কাঁধে ছিল হনুমানের হাতে থাকা গদা।

কুমিল্লার একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ইকবাল হোসেনের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তার একটি রাজনৈতিক আদর্শও রয়েছে। সেই বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তার অতীত অপরাধের ইতিহাসও ঘেঁটে দেখছি আমরা।’

এদিকে ইকবালের মা জানান, তার ছেলে ইকবাল ১৫ বছর বয়স থেকেই নেশা করা শুরু করে। গত ১০ বছর আগে বিয়ে করেন ইকবাল। জেলার বরুড়া উপজেলায় বিয়ে করে। তার এক ছেলে হয়। পরে পাঁচ বছর পরে ইকবালের ডিভোর্স হয়। তারপর ইকবাল জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়া বাজার এলাকার কাদৈর গ্রামে বিয়ে করে। এ সংসারে তার এক ছেলে এক মেয়ে। ইকবালের স্ত্রী-সন্তান এখন কাদৈর গ্রামে থাকে।

ইকবালের মা আমেনা বেগম আরো জানান, ইকবাল নেশাগ্রস্ত হয়ে নানানভাবে পরিবারের সদস্যদের ওপর অত্যাচার করতো। বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটে হাঁটে। গোসলখানার দরজা বন্ধ করে ইয়াবা সেবন করে। ইকবাল মাজারে মাজারে থাকতে ভালোবাসতো। বিভিন্ন সময় আখাউড়া মাজারে যেত। কুমিল্লার বিভিন্ন মাজারেও তার যাতায়াত ছিলো। ইকবাল পঞ্চম শ্রেণি পাস। ১০ বছর আগে বন্ধুদের সাথে অন্য পাড়ার আরো কিছু ছেলের সঙ্গে মারামারি হয়।

এ সময় ইকবালকে পেটে ছুরিকাঘাত করে। তখন ইকবালের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ইকবালের মা আমেনা বেগম বলেন, তারপর থেকে অপ্রকৃতস্থ ইকবাল। তার চলাফেরার কারণে বিভিন্ন সময় চুরির অপবাদে তাকে স্থানীয়রা মারধর করতো বলে আক্ষেপ করতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *